Pages

Showing posts with label বাংলাদেশের পর্যটন. Show all posts
Showing posts with label বাংলাদেশের পর্যটন. Show all posts

Thursday, September 25, 2014

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন



বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন একটি স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা যা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছেসংস্থাটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়বাংলাদেশের জাতীয় পর্যটন সংস্থা হিসেবে এটি পরিচিত ও জাতীয় অর্থনীতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে


বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের লোগো

ইতিহাস

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের যোগাযোগ পর্যটন খাত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিলআগস্ট, ১৯৭৫ সালে পৃথক একটি মন্ত্রণালয় হিসেবে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা হয়জানুয়ারি, ১৯৭৬ সালে এটি পুণরায় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একটি বিভাগে পরিণত হয়ডিসেম্বর, ১৯৭৭ সালে পৃথকভাবে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় খোলা হয়২৪ মার্চ, ১৯৮২ সালে এ মন্ত্রণালয়কে বিলুপ্ত করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাস্ত করা হয়এরপর ১৯৮৬ সাল থেকে উক্ত মন্ত্রণালয়কে পুণঃপ্রতিষ্ঠা করে অদ্যাবধি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন নামে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে

গঠন প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালনা পরিষদ ১৯৭৩ সালে গঠন করা হয়এতে একজন সভাপতি এবং তিনজন পূর্ণাঙ্গকালীন পরিচালক ছিলেন১৯৭২ সালের বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন গঠনের অধ্যাদেশ নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনা পরিষদ নিম্নলিখিত কার্যক্রম সম্পাদন করবে:
  • সংস্থার মাধ্যমে পর্যটন খাতের উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাসহ পর্যটনের সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কার্যাদি প্রণয়ন করবে
  • পর্যটকদের আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যাতায়াত, আবাসন ব্যবস্থা এবং সেবা প্রদানের নীতিমালা প্রণয়ন করবে
  • বিদেশ কিংবা স্থানীয় পর্যটকদের জন্যে আতিথেয়তা এবং তথ্য সংক্রান্ত বিষয়াবলী প্রদান করবে
  • জনগণের মাঝে পর্যটন সম্পর্কীয় সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে
  • পর্যটনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জন্যে নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে

কার্যাবলী

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন তাদের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য নিম্নরূপ কার্যাবলী সম্পন্ন করে:
  • পর্যটন শিল্পকে উৎসাহিতকরণ ও এর উন্নয়ন ঘটানো
  • বাংলাদেশে পর্যটনের উপযোগী প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সৃষ্টি করা
  • পর্যটনের সাথে সম্পৃক্ত সকল ধরণের কার্যাবলীতে সংযুক্ত রাখা
  • অবকাঠামো নির্মাণ, সুসজ্জ্বিতকরণ, হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিশ্রামাগার, বনভোজনের জন্য এলাকা নির্ধারণ, প্রচারণা, থিয়েটার, বিনোদন পার্ক এবং পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
  • পর্যটনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জন্যে নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা

পর্যটন শিল্প



পর্যটন কি ?

পর্যটন (ইংরেজি: Tourism) এক ধরনের বিনোদন, অবসর অথবা ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থান কিংবা এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করাকে বুঝায়ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটন শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেএছাড়াও, বিশ্বব্যাপী অবসরকালীন কর্মকাণ্ডের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেযিনি আমোদ-প্রমোদ বা বিনোদনের উদ্দেশ্যে অন্যত্র ভ্রমণ করেন তিনি পর্যটক নামে পরিচিত ট্যুরিস্ট গাইড, পর্যটন সংস্থা প্রমূখ সেবা খাত পর্যটনের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ - উভয়ভাবেই জড়িত রয়েছে
পর্যটক কে ?
বিশ্ব পর্যটন সংস্থা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পর্যটকরূপে আখ্যায়িত করতে গিয়ে বলেছে,

যিনি ধারাবাহিকভাবে এক বছরের কম সময়ের মধ্যে কোন স্থানে ভ্রমণ ও অবস্থানপূর্বক স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরে দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে অবসর, বিনোদন বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনাসহ অন্যান্য বিষয়াদির সাথে জড়িত, তিনি পর্যটকের মর্যাদা উপভোগ করবেন

১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডের পর্যটন সমিতির মতে,

পর্যটন এক ধরনের অস্থায়ী, ব্যক্তির নির্দিষ্ট স্থানে স্বল্পকালীন চলাচলবিশেষ যা নিজস্ব আবাসস্থল, কর্মক্ষেত্রের বাইরের কর্মকাণ্ডএছাড়াও, এতে সকল ধরণের উদ্দেশ্যমালা অন্তর্ভূক্ত থাকে

১৯৮১ সালে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞ সংগঠন পর্যটনকে বিশেষ ধরনের পছন্দ ও নির্বাচিত কার্যকলাপ যা বাড়ীর বাইরে সংঘটিত হওয়াকে সংজ্ঞায়িত করেছে
১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক পর্যটন পরিসংখ্যানের সুপারিশমালায়  তিন স্তরবিশিষ্ট পর্যটন রূপরেখা তুলে ধরা হয়
  • অভ্যন্তরীণ পর্যটন - কোন নির্দিষ্ট দেশের অভ্যন্তরে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ
  • সীমাবদ্ধ পর্যটন - কোন নির্দিষ্ট দেশের অভ্যন্তরে বসবাসরত অস্থায়ী জনগোষ্ঠী বা বিদেশীদের জন্য বরাদ্দ
  • বহিঃস্থ পর্যটন - অন্য দেশে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কোন নির্দিষ্ট দেশের স্থায়ী অধিবাসীদের জন্য প্রযোজ্য

ইতিহাস

সম্পদশালী বা বিত্তবান ব্যক্তিরা প্রায়শঃই বিশ্বের দূরবর্তী স্থানগুলোয় ভ্রমন করে থাকেনসেখানে তাঁরা উল্লেখযোগ্য ভবন, শিল্পকর্ম, নিত্য-নতুন ভাষা শিক্ষালাভ, নতুন সংস্কৃতির সাথে পরিচয়সহ হরেক রকমের রন্ধনপ্রণালীর স্বাদ আস্বাদনের সুযোগ পানঅনেক পূর্বে রোমান প্রজাতন্ত্রে বাইয়ে এলাকায় ধনীক শ্রেণীর জন্য সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় আবাসস্থলের ব্যবস্থা রেখেছিল ট্যুরিস্ট  বা পর্যটক  শব্দটির প্রথম প্রয়োগ হয় ১৭৭২ সালে এবং ট্যুরিজম  বা পর্যটন  শব্দের ব্যবহার হয় ১৮১১ সালে
১৯৩৬ সালে রাষ্ট্রসংঘ বিদেশী পর্যটকের সংজ্ঞা নির্ধারিত করেছিলএতে বলা হয়েছিল যে, বাইরের দেশে কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা অবস্থান করবেন তাঁরা পর্যটকরূপে বিবেচিত হবেন রাষ্ট্রসংঘের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ এ সংজ্ঞা পরিবর্তন করে পরিবর্তিত সংজ্ঞায় বলা হয় যে, সর্বোচ্চ ছয় মাস অবস্থানকালীন সময়কালে একজন ব্যক্তি পর্যটকের মর্যাদা উপভোগ করতে পারবেন

অর্থনৈতিক উপযোগিতা

২০১০ সালে ৯৪০ মিলিয়নেরও অধিক আন্তর্জাতিক পর্যটক বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ করেন২০০৯ সালের তুলনায় এ সংখ্যা ৬.৬% বেশী ছিল ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটনে ৯১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৬৯৩ বিলিয়ন ইউরো
বিশ্বের অনেক দেশে পর্যটন খাত অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেতন্মধ্যে - ফ্রান্স, মিশর, গ্রীস, লেবানন, ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ইতালি, থাইল্যান্ড অন্যতমএছাড়াও দ্বীপ রাষ্ট্র হিসেবে খ্যাত মৌরীতাস, বাহামা, ফিজি, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, সিসিলিতেও পর্যটন শিল্প ব্যাপক বিকাশ লাভ করেছেপর্যটনের মাধ্যমে ব্যাপক পরিমাণের অর্থ মালামাল পরিবহন এবং সেবা খাতে ব্যয়িত হয় যা বিশ্বের মোট জাতীয় উৎপাদনের প্রায় ৫% অর্থনীতির সহায়ক সেবা খাত হিসেবে পর্যটনের সাথে জড়িত রয়েছে ব্যাপকসংখ্যক লোকএরফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সেবা খাত বা শিল্পের মধ্যে রয়েছে পরিবহন ব্যবস্থা যাতে বিমান, প্রমোদ তরী, ট্যাক্সিক্যাব; আতিথেয়তা সেবায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা যাতে হোটেল, রিসোর্ট; এবং আমোদ-বিনোদনের মধ্যে চিত্তবিনোদন পার্ক, ক্যাসিনো, শপিং মল, সঙ্গীত মঞ্চ ও থিয়েটার অন্যতম

বাংলাদেশের উল্লেখ যোগ্য স্থান সমূহ (সিলেট বিভাগ)



জাফলং

জাফলং, বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তর্গত, একটি এলাকাজাফলং, সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে , ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, এবং এখানে পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন বলে এই এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত
বাংলাদেশের সিলেটের সীমান্তবর্তি এলাকায় জাফলং অবস্থিতএর অপর পাশে ভারতের ডাওকি অঞ্চলডাওকি অঞ্চলের পাহাড় থেকে ডাওকি নদী এই জাফলং দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে মূলত পিয়াইন নদীর অববাহিকায় জাফলং অবস্থিত সিলেট জেলার জাফলং-তামাবিল-লালখান অঞ্চলে রয়েছে পাহাড়ী উত্তলভঙ্গএই উত্তলভঙ্গে পাললিক শিলা প্রকটিত হয়ে আছে, তাই ওখানে বেশ কয়েকবার ভূতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে
বাংলাদেশে চার ধরণের কঠিন শিলা পাওয়া যায়, তন্মধ্যে ভোলাগঞ্জ-জাফলং-এ পাওয়া যায় কঠিন শিলার নুড়ি এছাড়া বর্ষাকালে ভারতীয় সীমান্তবর্তী শিলং মালভূমির পাহাড়গুলোতে প্রবল বৃষ্টিপাত হলে ঐসব পাহাড় থেকে ডাওকি নদীর প্রবল স্রোত বয়ে আনে বড় বড় গণ্ডশিলাও (boulder) একারণে সিলেট এলাকার জাফলং-এর নদীতে প্রচুর পরিমাণে পাথর পাওয়া যায়আর এই এলাকার মানুষের এক বৃহৎ অংশের জীবিকা গড়ে উঠেছে এই পাথর উত্তোলন ও তা প্রক্রিয়াজাতকরণকে ঘিরে

পিয়াইন নদী, জাফলং

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত

মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক, বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের অন্তর্গত মৌলভীবাজার জ়েলার বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলিতে অবস্থিত একটি ইকোপার্ক বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের রেস্টহাউজ ও রেস্টুরেন্ট রয়েছেএই ইকোপার্কের অন্যতম আকর্ষণ হলো মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, পরিকুণ্ড জলপ্রপাত, শ্রী শ্রী মাধবেশ্বরের তীর্থস্থান, এবং চা বাগান
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত হিসেবে সমধিক পরিচিতপাথারিয়া পাহাড় (পূর্বনাম: আদম আইল পাহাড়) কঠিন পাথরে গঠিত; এই পাহাড়ের উপর দিয়ে গঙ্গামারা ছড়া বহমানএই ছড়া মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত হয়ে নিচে পড়ে হয়েছে মাধবছড়াঅর্থাৎ গঙ্গামারা ছড়া হয়ে বয়ে আসা জলধারা [১২ অক্টোবর ১৯৯৯-এর হিসাবমতে] প্রায় ১৬২ ফুট উঁচু থেকে নিচে পড়ে মাধবছড়া হয়ে প্রবহমানসাধারণত একটি মূল ধারায় পানি সব সময়ই পড়তে থাকে, বর্ষাকাল এলে মূল ধারার পাশেই আরেকটা ছোট ধারা তৈরি হয় এবং ভরা বর্ষায় দুটো ধারাই মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় পানির তীব্র তোড়েজলের এই বিপুল ধারা পড়তে পড়তে নিচে সৃষ্টি হয়েছে বিরাট কুণ্ডেরএই মাধবছড়ার পানি পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হতে হতে গিয়ে মিশেছে হাকালুকি হাওরে|[

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত

বাংলাদেশের উল্লেখ যোগ্য স্থান সমূহ (রংপুর বিভাগ)



রামসাগর

রামসাগর দিনাজপুর জেলার তেজপুর গ্রামে অবস্থিত মানবসৃষ্ট দিঘিএটি বাংলাদেশে মানুষের তৈরি সবচেয়ে বড় দিঘি তটভূমিসহ রামসাগরের দৈর্ঘ্য ১,০৩১ মিটার ও প্রস্থ ৩৬৪ মিটারগভীরতা গড়ে প্রায় ১০ মিটারপাড়ের উচ্চতা ১৩.৫ মিটারদীঘিটির পশ্চিম পাড়ের মধ্যখানে একটি ঘাট ছিল যার কিছু অবশিষ্ট এখনও রয়েছেবিভিন্ন আকৃতির বেলেপাথর স্ল্যাব দ্বারা নির্মিত ঘাটটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ছিল যথাক্রমে ৪৫.৮ মিটার এবং ১৮.৩ মিটারদীঘিটির পাড়গুলো প্রতিটি ১০.৭৫ মিটার উঁচু ঐতিহাসিকদের মতে, দিনাজপুরের বিখ্যাত রাজা রামনাথ (রাজত্বকাল: ১৭২২-১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ) পলাশীর যুদ্ধের আগে (১৭৫০-১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে) এই রামসাগর দিঘি খনন করেছিলেনতাঁরই নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় রামসাগর

রামসাগর

বাংলাদেশের উল্লেখ যোগ্য স্থান সমূহ (রাজশাহী বিভাগ)



সোমপুর বৌদ্ধবিহার

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয় এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিলশুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, চীন, তিব্বত, মায়ানমার ( তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেনখ্রিষ্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান
৭ম শতাব্দীর মাঝামাঝিতে হিউয়েন ৎসাং পুন্ড্রবর্ধনে আসেন ও তার বিস্তারিত বিবরণে সোমপুরের বিহার ও মন্দিরের কোন উল্লেখ নেইগোপালের পুত্র ধর্মপাল (৭৮১ - ৮২২ খ্রি) সিংহাসনে আরোহণ করে দীর্ঘকাল রাজত্ব করেন ও রাজ্যকে বাংলা বিহার ছাড়িয়ে পাকিস্তানের উত্তর - পশ্চিম সীমান্তের গান্ধার পর্যন্ত বিস্তৃত করেনসম্রাট ধর্মপাল অনেক নিষ্ঠাবান বৌদ্ধ ছিলেন ও তিনিই বিক্রমশীলা ও সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা করেনঅন্য মতে, বিখ্যাত তিব্বতীয় ইতিহাস গ্রন্থ "পাগ সাম জোন ঝাং" এর লেখক অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ধর্মপালের পুত্র দেবপাল (৮১০-৮৫০)কর্তৃক সোমপুরে নির্মিত বিশাল বিহার ও সুউচ্চ মন্দিরের উল্লেখ করেছেনসোমপুর বিহারের ভিক্ষুরা নালন্দা, বুদ্ধগয়া প্রভৃতি ভারতীয় বিভিন্ন বৌদ্ধ তীর্থস্থানে অর্থ ও ধন রত্ন দান করতেন বলে বিভিন্ন লিপিতে উল্লেখ করা আছে যা ১০ - ১১শ শতাব্দীতে সমৃদ্ধশীল অবস্থার ইঙ্গিত বহন করে
পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থানগড়) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়)এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহারএর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিতঅপর দিকে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে এর দূরত্ব পশ্চিমদিকে মাত্র ৫ কিমিএটি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের প্লাবন সমভূমিতে অবস্থিত, প্লাইস্টোসীন যুগের বরেন্দ্র নামক অনুচ্চ এলাকার অন্তর্ভুক্তমাটিতে লৌহজাত পদার্থের উপস্থিতির কারণে মাটি লালচেঅবশ্য বর্তমানে এ মাটি অধিকাংশ স্থানে পললের নিচে ঢাকা পড়েছেপার্শ্ববর্তী সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৩০.৩০ মিটার উচুতে অবস্থিত পাহাড় সদৃশ স্থাপনা হিসেবে এটি টিকে রয়েছেস্থানীয় লোকজন একে 'গোপাল চিতার পাহাড়' আখ্যায়িত করতসেই থেকেই এর নাম হয়েছে পাহাড়পুর, যদিও এর প্রকৃত নাম সোমপুর বিহার

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর রাজশাহী শহরে স্থাপিত বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘরএটি প্রত্ন সংগ্রহে সমৃদ্ধএই প্রত্ন সংগ্রহশালাটি ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থাপিত হয়েছিলবর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এটি পরিচালনা করে থাকে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর রাজশাহী মহানগরের কেন্দ্রস্থল হেতেম খাঁ-তে অবস্থিতএটি বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘরপ্রত্নতত্ত্ব সংগ্রহের দিক থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সংগ্রহশালাবরেন্দ্র জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় নাটোরের দিঘাপাতিয়া রাজপরিবারের জমিদার শরৎ কুমার রায়, আইনজীবী অক্ষয়কুমার মৈত্র এবং রাজশাহী কলিজিয়েট স্কুলের শিক্ষক রামপ্রসাদ চন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আবদান রয়েছে১৯১০ খ্রিস্টাব্দে তারা বাংলার ঐতিহ্য ও নিদর্শন সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি গঠন করেনঐ বছরে তারা রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে ৩২টি দুষ্প্রাপ্য নিদর্শন সংগ্রহ করেনএই নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করার জন্য শরৎ কুমার রায়ের দান করা জমিতে জাদুঘরটির নিজস্ব ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়নির্মাণ শেষ হয় ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দেএকই বছরের ১৩ নভেম্বর বাংলার তৎকালীন গভর্নর কারমাইকেল জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন১৯১১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা জাদুঘর অকস্মাৎ এতে সংরক্ষিত সকল নিদর্শন দাবি করে বসেতৎকালীন গভর্নর কারমাইকেলের প্রচেষ্টায় ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারী তারিখে জারীকৃত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বরেন্দ্র জাদুঘরকে এর নিদর্শন সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যপারে স্বাধীকার প্রদান করা হয় বরেন্দ্র জাদুঘরের সংগ্রহ সংখ্যা ৯ হাজারেরও অধিকএখানে হাজার বছর আগের সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন রয়েছে মহেনজোদারো সভ্যতা থেকে সংগৃহীত প্রত্নতত্ত, পাথরের মূর্তি, খিষ্ট্রীয় একাদশ শতকে নির্মিত বুদ্ধু মূর্তি, ভৈরবের মাথা, গঙ্গা মূর্তি সহ অসংখ্য মূর্তি এই জাদুঘরের অমূল্য সংগ্রহের অন্তর্ভুত মোঘল আমলের রৌপ্র মুদ্রা, গুপ্ত সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের গোলাকার স্বর্ণমুদ্রা, সম্রাট শাহজাহানের গোলাকার রৌপ্য মুদ্রা বিশেষ ভাবে উল্যেখয়োগ্যএখানে প্রায় ৫০০০ পুঁথি রয়েছে যার মধ্যে ৩৬৪৬টি সংস্কৃত আর বাকিগুলো বাংলায় রচিতপাল যুগ থেকে মুসলিম যুগ পযর্ন্ত সময় পরিধিতে অঙ্কিত চিত্রকর্ম, নূরজাহানের পিতা ইমাদ উদ দৌলার অঙ্কিত চিত্র এখানে রয়েছেনওগাঁর পাহাড়পুর থেকে উদ্ধারকৃত ২৫৬টি ঐতিহাসিক সামগ্রী রয়েছে


রাজশাহী বরেন্ত্র জাদুঘরে রক্ষিত আরবী ক্যালিগ্রাফির শিলালিপি

বাঘা মসজিদ

বাঘা মসজিদ রাজশাহী জেলা সদর হতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বাঘা উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদসুলতান নাসিরউদ্দীন নসরাত শাহ ১৫২৩ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন মসজিদটি ১৫২৩-১৫২৪ সালে (৯৩০ হিজরি) হুসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন শাহের পুত্র সুলতান নসরাত শাহ নির্মাণ করেন পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই মসজিদের সংস্কার করা হয় এবং মসজিদের গম্বুজগুলো ভেঙ্গে গেলে ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদে নতুন করে ছাদ দেয়া হয় ১৮৯৭ সালে
প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন সমৃদ্ধ অন্যতম দর্শনীয় স্থাপনা বাঘা দরগা শরীফ বা বাঘা মসজিদ বাঘার এই ব্যিখাত ও বহুল প্রচারিত শাহী মসজিদ এককালে এতদঞ্চলে ইসলাম প্রচারে নিবেদিত এক সাধকের প্রতি বাংলার সুলতানি আমলের অন্যতম সুযোগ্য শাসকের স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধার নিদর্শনযা বর্তমানে দেশের ৫০ টাকার নোটে ও ১০ টাকার ডাক টিকিটে শোভা পাচ্ছে]

মহাস্থানগড়


মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তিপূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর এটি সোমপুর এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিলএখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছেএর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে অবস্থিত

মহাস্থানগড়

দর্শনীয় স্থান
  • মাজার শরীফ
  • কালীদহ সাগর
  • শীলাদেবীর ঘাট
  • জিউৎকুন্ড
  • বেহুলার বাসর ঘর
  • গোবিন্দ ভিটা
  • জাদুঘর